Sports News

[Content Marketing][recentmag]
Footer Logo

২০২১/০৬/০৯

Class 10 Hariye Jawa Kali Kalom by Shripantha

  BAIRAGYA SHIKSHA NIKETAN       ২০২১/০৬/০৯

 হারিয়ে যাওয়া কালি কলম
শ্রীপান্থ

'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধটি পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ কর্তৃক দশম শ্রেণীর পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষায় হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধ থেকে প্রশ্ন আসে। দশম শ্রেণীর ছাত্র ছাত্রীদের জন্য হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধ থেকে গুরুত্বপূর্ণ নোটস বর্তমান আর্টিকেলে পাওয়া যাবে। 

Class 10 Hariye Jawa Kali Kalom by Shripantha
Class 10 Hariye Jawa Kali Kalom by Shripantha



হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধের উৎস:


প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থ 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধের রচয়িতা। শ্রীপান্থের লেখা "হারিয়ে যাওয়া কালি কলম ও মন" প্রবন্ধ গ্রন্থ থেকে এই প্রবন্ধটি চয়ন করা হয়েছে। 


হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধের বিষয়বস্তু:


হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থ তার বাল্যকালের লেখালেখির অভিজ্ঞতা এবং লেখালেখির ধারাবাহিক ইতিহাস বর্ণনা করেছেন। আগেকার দিনে লেখালেখি পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত জটিল। সে সময়ে বাঁশের কঞ্চি কেটে কলম বানিয়ে এবং বাড়িতে তৈরি কালি দিয়ে কলাপাতার উপর লেখালেখি করতে হতো। কিন্তু বর্তমান সময়ে লেখালেখির দুনিয়ায় বিপুল পরিবর্তন ঘটেছে। এখন লেখালেখি করা হয় কম্পিউটার বা টাইপরাইটারের মাধ্যমে। লেখালেখির অফিসে কলম খুঁজে পাওয়া যায় না। খাতা ও কলম এর বদলে এখন কম্পিউটারে লেখালেখি করা হয়।


50-60 বছর আগে রোগা বাঁশের কঞ্চি কেটে কলম বানিয়ে প্রাবন্ধিক লেখালেখি করেছেন। শ্রীপান্থ এই প্রবন্ধে প্রাচীন মিশর, রোম এমনকি চীন দেশে লেখালেখির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়েছেন। কলম এখন অত্যন্ত সস্তা। লুইস এডসন ওয়াটারম্যান ফাউন্টেনপেন আবিষ্কার করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফাউন্টেন পেনের নাম দিয়েছিলেন ঝরনা কলম। সেই সময়ে পার্কার, শেফার্ড, ওয়াটারম্যান, পাইলট ইত্যাদি কোম্পানির ফাউন্টেন পেন বাজারে জনপ্রিয় ছিল। শৈলজানন্দ, শরৎচন্দ্র, প্রমূখ সাহিত্যিকগণ কলম নিয়ে বহু সৌখিনতা দেখিয়ে গিয়েছেন। কলমকে বলা হয় তলোয়ারের চেয়েও শক্তিধর। কলমের ধারাবাহিক ইতিহাস বর্ণনা হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধের মুখ্য বিষয়। একইসঙ্গে কালি ও কলম এর প্রতীক প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থের অনুরাগের কথা প্রকাশ পেয়েছে। 


হারিয়ে যাওয়া কালি কলম এর ছোট প্রশ্ন:

প্রতিটি প্রশ্নের মান 1:


1. আদিতে ফাউন্টেন পেনের কী নাম ছিল? 

আদিতে বা প্রাচীনকালে ফাউন্টেন পেনের নাম ছিল রিজার্ভার পেন। 


2. কানে কলম গুঁজে দুনিয়া খুঁজে কে? 

দার্শনিক কানে কলম গুঁজে দুনিয়া খোঁজেন। 


3. কথায় বলে- কথায় কী বলে? 

কথায় বলে, 'কালিকলম মন, লেখে তিনজন'। 


4. শ্রীপান্থের আসল নাম কী? 

শ্রীপান্থের আসল নাম নিখিল সরকার। 


5. বাংলায় একটা কথা চালু ছিল- বাংলায় কোন কথা চালু ছিল? 

বাংলায় একটা কথা চালু ছিল, 'কালি নেই কলম নেই বলে আমি মুনশি'। 


6. অক্ষরজ্ঞানহীনকে লোকে কি বলে? 

অক্ষরজ্ঞানহীনকে লোকে বলে, ওর কাছে ক'অক্ষর গোমাংস। 


7. গোরুকে অক্ষর খাওয়ানো কী হয়? 

গরুকে অক্ষর খাওয়ানো পাপ হয়। 


8. হারিয়ে কালি কলম প্রবন্ধ থেকে একটি প্রবচনের উল্লেখ করো। 

'তিল ত্রিফলা শিমুল ছালা/ ছাগদুগ্ধে করি মেলা/ লৌহ পাত্রে লোহায় ঘসি/ ছিঁড়ে পত্র না ছাড়ে মসি'। 


9. তলোয়ারের চেয়েও শক্তিধর কী? 

কলমকে বলা হয় তলোয়ারের চেয়েও শক্তিধর। 


10. কালি তৈরির পদ্ধতি কিরূপ ছিল? 

প্রাচীনকালে রান্না করা হতো কাঠের উনুনে। কড়াইয়ের তলায় ভুসোকালি জমতো। সেই কালি জলে গুলে তাতে হরিতকী ঘষে বা আতপ চাল পুড়িয়ে বেটে মেশাতে হত। সবশেষে একটি খুনতিকে লাল করে পুড়িয়ে সেই জলে ছ্যাকা দিতে হতো। 


11. ফাউন্টেন পেন কে আবিষ্কার করেছিলেন? 

ফাউন্টেন পেন আবিষ্কার করেছিলেন লুইস এডসন ওয়াটারম্যান। 


12. লোকনাথ মুখোপাধ্যায় কিভাবে মারা গিয়েছিলেন? 

ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় নিজের হাতের কলমের আঘাতে মারা গিয়েছিলেন। 


13. দোয়াত কত রকম হতে পারে? 

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধে শ্রীপান্থ নানারকম দোয়াতে কথা উল্লেখ করেছেন। মাটির দোয়াত, কাচের দোয়াত, কাট-গ্লাসের দোয়াত, পোর্সেলিনের দোয়াত, শ্বেত পাথরের দোয়াত, জেডের দোয়াত, পিতলের দোয়াত, ব্রোঞ্জের, ভেড়ার শিং এর এবং সোনার দোয়াত এর কথা বলেছেন। 


14. কলম তাদের কাছে অস্পৃশ্য কেন? 

বর্তমান সময়ে কলম অত্যন্ত সস্তা এবং সর্বভোগ্য হয়ে পড়েছে। তাই কলম এখন পকেটমারদের কাছে অস্পৃশ্য। 


15. শেষপর্যন্ত নিবের কলম এর মান মর্যাদা কে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন? 

সত্যজিৎ রায়। 


16. এই নেশা আমি পেয়েছি শরৎদার কাছ থেকে- কোন নেশা? 

প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থ শরৎচন্দ্রের কাছ থেকে ফাউন্টেনপেন সংগ্রহ নেশা পেয়েছিলেন। 


17. কুইল ড্রাইভারস কাদের বলা হত? 

লর্ড কার্জন বাঙালি সাংবাদিকদের গরম গরম ইংরেজি দেখে তাদের বাবু কুইল ড্রাইভারস বলতেন। 


18. খাগের কলম কখন দেখা যায়? 

খাগের কলম দেখা যায় একমাত্র সরস্বতী পুজোয়। 


19. হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধে সবচেয়ে দামি কলমটির মূল্য কত ছিল? 

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধে একটি কলমের দাম উল্লেখ করা হয়েছে আড়াই হাজার পাউন্ড বা ভারতীয় মুদ্রায় 1 লক্ষ 87 হাজার 500 টাকা। 


20. কঙ্কাবতী উপন্যাস কে লিখেছিলেন? 

ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়। 


হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধের বড় প্রশ্নের উত্তর:


1. "আমরা কালিও তৈরি করতাম নিজেরাই"- কালি তৈরির পদ্ধতি লেখ। 


শ্রীপান্থ তার সময় কালে লেখালেখি পদ্ধতির উল্লেখ করতে গিয়ে সে সময়ে কিভাবে কালি তৈরি করতে হতো তার বর্ণনা দিয়েছেন। সেই সময়ে স্কুলপড়ুয়ারা নিজেরা কালি তৈরি করলেও কখনো কখনো মা, পিসিদের সাহায্য নিতে হতো। প্রবন্ধ দু রকম ভাবে কালি তৈরির কথা আছে। তিল, ত্রিফলা (হরীতকী, বহেড়া, আমলকি) একসাথে চূর্ণ করে লোহার পাত্রে ছাগলের দুধের সঙ্গে ভিজিয়ে রাখতে হতো। তারপর একটা লোহার দন্ড দিয়ে সেই মিশ্রণটি ভালোভাবে ঘষে নিতে হতো। এভাবে যে কালি তৈরি করা হতো তা হতো পাকা কালি। খাতার পাতা ছিঁড়ে গেলেও কালি উঠতো না। 


প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থের কালি তৈরির পদ্ধতি সহজ ছিল। সেই সময়ে বাড়িতে রান্না করা হতো কাঠের উনানে। কড়াইয়ের তলায় যে কালি জমত তা লাউ পাতা দিয়ে ঘষে তুলে নিয়ে পাথরের বাটিতে রেখে জল দিয়ে গুলে নিতে হতো। এই জলে কেউ কেউ হরিতকী ঘষত কিংবা আতপ চাল পুড়িয়ে বেটে সেই জলে মিশাতে হতো। এরপর একটি খুন্তিকে পুড়িয়ে সেই জলে ছ্যাকা দিতে হতো। জল টগবগ করে ফুটে উঠত। জল ঠান্ডা হলে তা ছেঁকে নিয়ে দোয়াতে ভরে রাখতে হতো। সাধারণ ঘরের ছেলেমেয়েরা এভাবে সহজে কালি তৈরি করত। 


2. ফাউন্টেন পেনের জন্ম বৃত্তান্ত লেখ। 


প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থ হারিয়ে যাওয়া কালি কলম নামক প্রবন্ধে জানিয়েছেন, লুইস এডসন ওয়াটারম্যান ফাউন্টেন পেন আবিষ্কার করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফাউন্টেন পেনের বাংলা নামকরণ করেছিলেন ঝর্না কলম। 


লুইস এডসন ওয়াটারম্যান এর ফাউন্টেন পেন আবিষ্কার এর পশ্চাতে একটি কাহিনী রয়েছে। ওয়াটারম্যান ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। তিনি তার ব্যবসার জন্য একটি চুক্তি পত্র তৈরি করার কাজে গিয়েছিলেন। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন দোয়াত কলম। চুক্তিপত্র বা দলিল কিছুটা লেখা হওয়ার পরে দোয়াত হঠাৎ কাগজে উল্টে পড়ে গেল। এখন তিনি কালির সন্ধানে ছুটলেন। কিছুক্ষণ পরে কালি নিয়ে ফিরে এসে শুনলেন, অন্য এক ব্যবসায়ী সেই চুক্তি পাকা করে ফেলেছেন। ওয়াটারম্যান এই ঘটনায় বিমর্ষ হয়ে পড়েন এবং দোয়াত কলমের অসুবিধার একটা বিহিত করতে চাইলেন। এরপর তিনি ফাউন্টেন পেন আবিষ্কার করেছিলেন। 


3. হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধে কালি ও কলম এর প্রতি শ্রীপান্থের ভালোবাসা কিভাবে প্রকাশ পেয়েছে তা লেখ। 


হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধের কালি ও কলম এর ধারাবাহিক ইতিহাস বর্ণনা করতে গিয়ে প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থ কালি কলমের প্রতি তার অন্তরের অনুরাগ অপ্রকাশ রাখেননি। তার ছেলেবেলায় লেখালেখির উপকরণ, কালি ও কলম তৈরি ইত্যাদি বর্ণনা প্রসঙ্গে এবং বর্তমানে কলমের মূল্য হ্রাস সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি কালি কলম এর প্রতি তার ভালোবাসার কথা বলেছেন। 


প্রাবন্ধিক ছেলেবেলায় নিজের হাতে কালি ও কলম বানাতেন। কাঠের উনুনে রান্না করা কড়াই-এর তলায় যে কালি জমত তা লাউ পাতা দিয়ে ঘষে তুলে পাথরের বাটিতে রাখা জলে গুলে নিতেন। এই জলের সঙ্গে আরও কিছু উপকরণ মিশিয়ে তিনি কালি তৈরি করতেন। কালি তৈরির প্রয়োজনীয়তা পরে কমে গেল। কালি কলম এর বদলে ফাউন্টেন পেনে লেখালেখি শুরু করলেন তিনি। আরও পরে বাজারে এলো বল পেন।


কিন্তু বল পেন লেখকের ভালো লাগেনি। সময়ের সঙ্গে চলার কারণে তিনি বল পেনের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হলেন। বর্তমান সময়ে লেখালেখি কর্মে কলমের ব্যবহার সংকুচিত হয়ে এসেছে। এখন লেখালেখি করা হয় কম্পিউটারের মাধ্যমে। কিন্তু কালি কলম এর ভক্ত শ্রীপান্থ কম্পিউটারকে আপন করতে পারেননি। তাই যন্ত্র যুগেও তিনি করণকে আঁকড়ে ধরে আছেন। কালি কলম এর স্মৃতি তার মন থেকে মুছে যায়নি। ছেলেবেলার কথা বলতে গিয়ে তার মন ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছে। 


4. প্রাচীনকালে গ্রামের ছেলেরা কিভাবে কলম তৈরি করত? 


বাংলা সাহিত্যের খ্যাতনামা প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থ হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধে বাল্য কালে কিভাবে কালি ও কলম তৈরি করে বিদ্যা চর্চা করতে হতো সেকথা সুশৃংখল শব্দজালে বর্ণনা করেছেন। সে সময়ে লেখালেখি ব্যাপারটা আজকের দিনের মত এত সরল ছিলনা। সে সময়ে ছাত্রদের কাছে কালি ও কলম প্রাপ্তি একটি বিশেষ ঘটনা বলে বিবেচিত হত। ছাত্ররা বাড়িতে ঘরোয়া পদ্ধতিতে কালি ও কলম তৈরি করত। 


সে সময়ে কলম তৈরির প্রধান উপকরণ ছিল বাঁশের কঞ্চি। কাঁচা রোগা বাঁশের কঞ্চি কেটে তার আগা অংশ সূচালো করে কেটে নিতে হত। এর পরে সেই সূচালো মুখটি অল্প একটু চিরে দিতে হতো। বাঁশের কলমটি কালিতে ডুবিয়ে ডুবিয়ে লিখতে হত। লেখার সময় কালি যাতে পাতায় অনেকটা পরিমাণে ঝরে না পড়ে সেই জন্য কলমের মুখটি চিড়ে দেওয়ার এই প্রথা। সে সময়ে লেখালেখি করতে হতো কলাপাতায়।


কলাপাতাটিকে নির্দিষ্ট মাপে কেটে খাতার মতো আকার দেওয়া হতো। বাড়িতে তৈরি কালি ও কলম এর সহযোগে সেই কলাপাতার উপরে লেখালেখি করা হত। বিদ্যালয় মাস্টারমশাইদের হোমটাস্ক দেখানো হলে তিনি তা পর্যবেক্ষণের পরে একটানে ছিড়ে তার ছাত্রকে ফিরিয়ে দিতেন। ছাত্ররা বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে সেই ছিন্ন কলাপাতা পুকুরে ফেলে দিয়ে আসতো। 


5. কলম তাদের কাছে আজ অস্পৃশ্য- কলম কাদের কাছে অস্পৃশ্য এবং কেন? 


সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারিক অনেক কিছু পরিবর্তিত হয়। প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থ হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধে বহমান সময়ের ধারায় মানুষের লেখালেখির অভ্যাস এবং উপায়ের পরিবর্তনকে সুচারুভাবে উপস্থাপন করেছেন। প্রাবন্ধিক তার বাল্যকালের লেখালেখির উপায় ও উপকরণ সম্বন্ধে বর্ণনা প্রসঙ্গে কালি কলম এর প্রতি তার অনুরাগ এর পরিচয় রেখেছেন। সে সময়ে কলমকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীর মনে কত আনন্দ ও উত্তেজনা প্রকাশ পেত।


লেখালেখি করার জন্য যেসব পদ্ধতি অনুসরণ করতে হতো তার পরিচয় এই প্রবন্ধে আছে। পুরনো দিনের কলমের প্রতি অনুরাগ বর্তমান সময়ে এসে হারিয়ে গেছে। লেখালেখি কর্মটি বর্তমানে কম্পিউটারে বা টাইপরাইটারে করা হয়। এখন লেখকরা সচরাচর কলম ব্যবহার করেন না। একইসঙ্গে কলমের দাম অনেক সস্তা। বর্তমান সময়ে কলম তার মূল্য এবং প্রাসঙ্গিকতা দুই হারিয়েছে। আগে প্রতি তিনজন ফেরিওয়ালার মধ্যে একজনের পেশা ছিল কলম বিক্রি করা। কলকাতার চৌরঙ্গীতে কলম ফেরিওয়ালাদের দেখা মিলত। এখনো মানুষ কলম বিক্রি করে তবে তা এত সস্তা মানুষ সেই কলমের প্রতি আকৃষ্ট হয় না। 


পূর্বকালের শিক্ষিত মানুষেরা পকেটে কলম রাখত। কলম ছিল শিক্ষা ও আভিজাত্যের প্রতীক। কিন্তু এখন কলম তার মর্যাদা হারিয়েছে। প্রাবন্ধিক উল্লেখ করেছেন, একজন দারোগাবাবু পায়ের মোজায় কলম গুজে রেখেছিলেন। এক ভদ্রমহিলা কলমের সাহায্যে চুলের খোঁপা বেঁধেছিলেন। আধুনিক ছেলেদের জামায়, কাঁধের পকেটে কলম সাজানো থাকে। কলমের ব্যবহারিক মূল্য এত কমে গেছে যে কোন পকেটমার এখন আর কলম চুরি করে না। পকেটমারদের কাছে কলম এখন অস্পৃশ্য। 


6. সব মিলিয়ে লেখালেখি রীতিমতো ছোটখাটো একটা অনুষ্ঠান- এ কথা বলা হয়েছে কেন? 


প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থ হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধে তাঁর বাল্যকালের লেখালেখির বিষয়টিকে উপস্থাপন করেছেন। লেখালেখির প্রথমদিকে ছাত্রছাত্রীরা নিজেরা বাড়িতে কালি কলম তৈরি করত। কড়াইয়ের তলা থেকে কালি সংগ্রহ করে পাত পাথরের বাটিতে রাখা জলে গুলে নিয়ে এবং তার সঙ্গে আরও কিছু উপকরণ মিশিয়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে কালি তৈরি করা হতো। রোগা বাঁশের কঞ্চি সরু করে কেটে তারা কলম তৈরি করত। পরবর্তীকালে ফাউন্টেন পেন আবিষ্কার হলে নানা রকমের কালি বাজারে পাওয়া যেতে থাকলো।


কাচের দোয়াতে কালির ট্যাবলেট গুলে বা তৈরি কালি কিনে ফাউন্টেনপেনে ভর্তি করে লেখালেখি কর্মটি চলত। সে সময়ে বাজারে বিদেশি কালিও পাওয়া যেতে থাকলো। নানা রকমের ফাউন্টেনপেন বাজারে পাওয়া গেল। গরুর শিং বা কচ্ছপের খোল কেটে তৈরি ফাউন্টেন পেনের নিবের মুখে হীরে-বসানো ছিল একটি সৌখিন প্রথা। প্লাটিনাম, সোনা ইত্যাদি ধাতু দিয়ে মোড়া ফাউন্টেন পেন অভিজাতরা ব্যবহার করত। লেখালেখি একটি ধারাবাহিক ইতিহাস।


এই ইতিহাস বিচার করলে দেখা যায়, সে সময়ে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত মানুষ কালি ও কলম এর প্রতি অনুরক্ত ছিল। লেখালেখি কর্মটিকে সমাধা করার জন্য বিপুল আয়োজন করতে হতো। কালি তৈরি, কলম তৈরি, কালি ও কলম এর নানা প্রকারভেদ, ব্লটিং পেপার, দোয়াত এবং আরো নানা উপকরণ সে সময়ে লেখালেখির জন্য প্রয়োজন হত। তাই প্রাবন্ধিক সে সময়ের লেখালেখি বিষয়টিকে একটি ছোটখাটো অনুষ্ঠান বলেছেন। 


7. ক্যালিগ্রাফিস্ট কাদের বলা হয়? হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধে ক্যালিগ্রাফিস্ট এর সম্বন্ধে কী বলা হয়েছে? 


আগেকার দিনে ভারতবর্ষে যখন ছাপাখানা আসেনি তখন যেসব লিপিকুশলীরা সুন্দর হস্তাক্ষরে পুথি নকল করতেন তাদের ক্যালিগ্রাফিস্ট বলা হত। ক্যালিগ্রাফির একটি ইংরেজি শব্দ। এর বাংলা অর্থ লিপিকুশলী ব্যক্তি। 


ছাপাখানা প্রতিষ্ঠার পূর্ব সময়ে লিপিকুশলীদের অত্যন্ত সুনাম ও খাতির ছিল। প্রাচীনকালে ও মধ্যযুগে কোনো পুথি নকল করতে বা জমিদারের দলিল বা উইল লিখতে ক্যালিগ্রাফিস্টদের প্রয়োজন হতো। তাদের হাতের লেখা ছিল অত্যন্ত সুন্দর। তাদের লেখা প্রতিটি অক্ষর ছিল সমান সুশৃংখল ও পরিচ্ছন্ন। প্রাবন্ধিক বলেছেন মুক্তোর মতো হস্তাক্ষর। মুঘল সম্রাটের দরবারে লিপিকুশলীদের অত্যন্ত জনপ্রিয়তা ছিল।


প্রাচীন ও মধ্যযুগে প্রতি নকল করে তারা যেমন শিক্ষা ব্যবস্থাটি বাঁচিয়ে রেখেছিলেন তেমনিভাবে সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাস তাদের হস্তাক্ষরে এবং পুঁথিতে সুশৃঙ্খলিত হয়ে আছে। আমাদের বাংলাদেশে রাজা জমিদার সকলেই লিপিকুশলীদের গুনি বলে সম্মান করতেন। প্রাবন্ধিক উল্লেখ করেছেন, একজন লিপিকুশলী চার খণ্ড রামায়ণ কপি করে অষ্টাদশ শতকে নগদ সাত টাকা, কিছু কাপড় ও মিষ্টি পেয়েছিলেন। উনিশ শতকে বারো আনায় বত্রিশ হাজার অক্ষর লেখানো যেত। নকল করা পুথি বিষয়ে মানুষের আবেগ, ভালোবাসা এবং আন্তরিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। 



এই ব্লগে আপনি কি পেতে পারেন ? এই ব্লগ কাদের জন্য? How will this Blog help you? What will you get from this Blog?


এই ব্লগটি মূলত ছাত্র ছাত্রীদের জন্য। পঞ্চম শ্রেণী থেকে শুরু করে মাধ্যমিক পরীক্ষা, একাদশ শ্রেণীর পরীক্ষা, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা, বাংলা অনার্স, বাংলা মাস্টার্স ডিগ্রি পর্যন্ত সমস্ত শ্রেণীর বাংলা বিষয়ে র মূল্যবান নোটস এই ব্লগে পাওয়া যাবে । এই ব্লগে আপনি পাবেন class 10 Bengali book pdf, class 10 Bengali question answer, CBSE class 10 Bengali guide book pdf, class 10 Bengali answer, class 10 Bengali syllabus, class 10 Bengali question answer, CBSE class 10 Bengali guide book pdf free download, CBSE class 10 Bengali guide book pdf, class 10 Bengali syllabus, class 10 Bengali question answer 2022, class 10 Bengali book pdf. বাংলা sahitya sanchayan class 10 bengali,sahitya sanchayan class 10 bengali বই থেকে সমস্ত রকমের নোটস আপনাকে Madhyamik/ Class 10th পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেতে সাহায্য করবে । যে সব ছাত্র ছাত্রী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেবেন, একাদশ শ্রেণীতে পড়ছেন, তাদের জন্য এই ব্লগ বিশেষভাবে উপযোগী। এই ব্লগে আছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়জনীয় বাংলা নোটস এর বিপুল সম্ভার। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য আমি তৈরি করেছি : hs bengali suggestion 2021 pdf download, bangla suggestion 2021 - 2022, bengali suggestion 2021-2022 hs, hs bengali question answer, hs bengali question 2021 - 2022, class 12 bengali suggestion 2021 / 2022 pdf, hs bengali syllabus 2021 - 2022, hs bengali notes, bangla suggestion, hs bengali question answer. একাদশ শ্রেণীর পরীক্ষার্থীদের জন্য আমি আমার বিশেষ প্রয়াস class 11 Bengali notes pdf download, class 11 Bengali notes, class xi Bengali suggestion pdf, class 11 Bengali question paper. যারা বাংলা বিষয়ে অনার্স Bengali Honours করছেন , তারাও প্রয়োজনীয় সমস্ত নোটস পাবেন। পঞ্চম শ্রেণী Class v / 5 থে কে নবম শ্রে ণী Class ix / 9 পর্যন্ত সমস্ত ক্লাসের বাংলা বই এর প্রশ্ন উত্তর এখানে পাবেন। টেক্সট বই text book থেকে সব উত্তর আছে ।


মাধ্যমিক বাংলা | WBBSE Class 10th Bengali - হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধের বিষয়বস্তু

মাধ্যমিক বাংলা | WBBSE Class 10th Bengali - হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধের বিষয়বস্তু

WBBSE Class 10th Bengali Suggestion-হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধ অনুসরণে বিভিন্ন প্রকার কলমের পরিচয় দাও

WBBSE Class 10th Bengali Suggestion- হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধ অনুসরণে বিভিন্ন প্রকার কলমের পরিচয় দাও

WBBSE Class X Bengali Suggestion- হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধ থেকে একটি প্রবচনের উল্লেখ করো

WBBSE Class X Bengali Suggestion- হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধ থেকে একটি প্রবচনের উল্লেখ করো

WBBSE Class 10th Bengali Question - Answer - কানে কলম গুঁজে দুনিয়া খুঁজে কে

WBBSE Class 10th Bengali Question - Answer -  কানে কলম গুঁজে দুনিয়া খুঁজে কে

WBBSE Class 10th Bengali Suggestion -  Hariyejawa kali kalam

WBBSE Class 10th Bengali Suggestion -  Hariye jawa kali kolom by sripantha shripantha

WBBSE Class 10th Madhyamik Bengali Suggestion - কালি কলম মন লেখে তিনজন

WBBSE Class 10th Madhyamik Bengali Suggestion -  হারিয়ে যাওয়া কালি কলম বিষয় বস্তু

WBBSE Class 10th WBBSE Madhyamik Bengali Suggestion - আদিতে ফাউন্টেন পেনের নাম কি ছিল

 দশম শ্রেণি / মাধ্যমিক বাংলা- কলমকে বলা হয় তলোয়ারের চেয়েও শক্তিধর

WBBSE Class 10th WBBSE Madhyamik Bengali Suggestion - হারিয়ে যাওয়া কালি কলম এর বড় প্রশ্ন উত্তর

দশম শ্রেণি / মাধ্যমিক বাংলা- হারিয়ে যাওয়া কালি কলম ছোট প্রশ্ন

যাওয়া কালি কলম শ্রীপান্থ

দশম শ্রেণি বাংলা হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রশ্ন উত্তর


WBBSE Madhyamik Bengali Suggestion, WBBSE Class 10th Bengali Suggestion Download, WBBSE Class 10th Bengali Question Answer Suggestion, WBBSE Class 10th Bengali, WBBSE Class 10th Bengali Question Paper, WBBSE Madhyamik important question-answers, Madhyamik Bengali Suggestion.



AKB SCHOOL provides Madhyamik Bengali Suggestion, WBBSE Class 10th Bengali Question Answer Suggestion, WBBSE Class 10th Bengali Question Paper, WBBSE Madhyamik important question-answers,Madhyamik Bengali Suggestion.

logoblog

Thanks for reading Class 10 Hariye Jawa Kali Kalom by Shripantha

Previous
« Prev Post

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Please do not enter any spam links in the comment box.