Sports News

[Content Marketing][recentmag]
Footer Logo

২০২১/০৭/১৭

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় Bibhutibhusan Bandyopadhay

  BAIRAGYA SHIKSHA NIKETAN       ২০২১/০৭/১৭

 বাংলা সাহিত্য আলোচনা
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস আধুনিক যুগ
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
Bengali Literature
Bibhutibhusan Bandyopadhay

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় Bibhutibhusan Bandyopadhay
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় Bibhutibhusan Bandyopadhay

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ উত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের সর্বাধিক জনপ্রিয় লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় । জীবন শিল্পী বিভূতিভূষণ মানুষের জীবন ও বাংলার প্রকৃতিকে তার উপন্যাসে পটভূমি করেছিলেন । ‘সাহিত্যের পথে’ গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যের উপাদান সম্পর্কে লিখেছিলেন, বাংলাদেশের সাহিত্যের উপাদান বাংলার নরনারী, তাদের দুঃখ দারিদ্রময় জীবন,বাংলার ঋতুচক্র,বাংলার সময়কাল, আকাশ-বাতাস, বাঁশবনের, আমবাগানের নিভৃত ছায়ায় ঘেরা ফুল বিছানো পথের ধারে যেসব জীবন অখ্যাতির আড়ালে আত্মগোপন করে আছে, তাদের কথাই বলতে হবে ।


 ’কল্লোল’, ‘কালিকলম’- এর যুগের মানুষ হয়েও তিনি মানুষের শাশ্বত জীবনবোধকে আশ্রয় করে হয়ে উঠলেন স্বতন্ত্র । তিনি বলেছেন, গাছপাল্‌ ফুল, পাখি, উদার মাঠ, ঘাট, সন্ধ্যা, জ্যোৎস্না রাত্রি, শত-সহস্র বছর ধরে যে বিরাট অসীম শান্ত উল্লাসের অস্তিত্ব, সাহিত্যিকদের কাজ হচ্ছে এই আনন্দের বার্তা সর্বসাধারণের প্রাণে পৌঁছে দেওয়া ।


বিভূতিভূষণ তাই মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে ছোট ছোট সুখ দুঃখের লীলা চাঞ্চল্যকে নিয়ে শতাধিক ছোটগল্প ও অনেকগুলি উপন্যাস রচনা করলেন । ছোটগল্প নিয়ে তাঁর সাহিত্য জীবনের সূত্রপাত । পরবর্তী ২৫ বছর ধরে তিনিবিষয় বৈচিত্র্য ও রূপ বৈচিত্রে রসোত্তীর্ণ অসংখ্য গল্প লিখেছেন । তাঁর প্রতিটি গল্পের কেন্দ্রে আছে মানুষ । তাকে আশ্রয় করে কখনো প্রকৃতি, কখনো ঈশ্বর চেতনার প্রকাশ ঘটেছ । পিতার কাছ থেকে তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন গল্প বলার ভঙ্গীটি । তাঁর পিতার পেশা ছিল কথকথা বলা । তাই বিভুষনের গল্পে একটি মনোরম কাহিনী আমরা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য করি ।


নানা ধরনের ছোট গল্প লিখেছেন তিনি । তাদের মধ্যে কাহিনী প্রধান গল্পে শুধু কাহিনী নয়, ঘটনা বিন্যাস, উপযুক্ত পরিবেশ রচনার ব্যাপারে তিনি সার্থক । ‘মেঘ মল্লার’(১৯৩১), ‘মৌরিফুল’(১৯৩২), ‘যাত্রাবদল’(১৯৩৪), ‘জন্ম ও মৃত্যু’(১৯৩৭), ‘কিন্নর দল’(১৯৩৮), ‘বেনেগীর ফুলবাড়ী’(১৯৪১), ‘বিধু মাস্টার’, ‘অসাধারণ’(১৯৪৬), এরূপ বহুবিচিত্র গল্প লিখেছিলেন তিনি । তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘তৃণাঙ্কুর’(১৯৪৩) । 


ঐতিহাসিক বা পৌরাণিক যুগ থেকে কাহিনী নিয়ে লেখা হয় ‘মৌরিফুল’ গল্পটি । তেমনি রোমান্টিক গল্প ‘মেঘমল্লার’ অতিপ্রাকৃত ও অলৌকিক রসের গল্প । তুচ্ছ বিষয়কে মহিমাময় করে লেখা ‘জলসত্র’ গল্পটি তাঁর অসাধারণ রচনা । ছোটগল্পগুলিতে তাঁর পূর্ণপরিচয় নিহিত । মণীন্দ্রলালের প্রভাব থাকা সত্বেও তার প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’(১৯২২) সার্থক রচনা । 


‘পুঁইমাচা’ গল্পটিতে তাঁর সর্বাধিক বিখ্যাত উপন্যাস ‘পথের পাঁচালী’র বীজ নিহিত আছে । এই জীবনধারা ভিত্তিক গল্পগুলি, এগুলি চিত্র জাতীয় রচনা নয়, দিনলিপি বা ভ্রমণবৃত্তান্ত নয়, এদের একটা সুনির্দিষ্ট শিল্পরূপ আছে । তাঁর গল্প গঠনের নৈপুণ্য, ঘটনাবিন্যাস, প্লট পরিকল্পনা, চরিত্র ও কাহিনীর মিশ্রণ বাহ্যিকভাবে পাঠকের চোখে পড়বে না । 


অথচ, তাঁর গল্পে যে গভীর ব্যঞ্জনা, জীবন রহস্যের যে তাৎপর্য নিহিত আছে, তা আমাদের মুগ্ধ করে । হয়তো তিনি গল্পের সাজসজ্জার দিকে ততটা নজর দেন নি, যতটা ভেবেছিলেন অন্তরঙ্গ রসসৃষ্টির দিকে ।


তাঁর উপন্যাসের সংখ্যা 13টি । ‘পথের পাঁচালী’(১৯২৯), ‘অপরাজিত’(১৯৩১), ‘দৃষ্টি প্রদীপ’(১৯৩৫), ‘আরণ্যক’(১৯৩৮), ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’(১৯৪০), ‘বিপিনের সংসার’(১৯৪৪), ‘দেবযান’(১৯৪৪, ‘অনুবর্তন’(১৯৪২), ‘ইছামতি’(১৯৫০)), ‘দুই বাড়ি’, ’হেদার রাজা’, ‘অথৈ জল’, এবং মৃত্যুর পর প্রকাশিত ‘অশনি সংকেত’(১৯৫৯) । তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘পথের পাঁচালী’


‘পথের পাঁচালী’ লেখকের বাল্যস্মৃতিমূলক উপন্যাস চিত্র । তাঁর প্রগাঢ় অনুভূতি ও ভাবুকতা বইটির আখ্যায়িকাগুলিকে রমণীয় করেছে । ‘অপরাজিত’ পথের পাঁচালী’র পরের কথা । এখানে লেখক উপন্যাসের বাঁধা পথ অবলম্বন করে নি । একটি বালক-মন কিভাবে রূপকথার রূপলোকে বিচরণ করতে করতে অগ্রসর হল, বালক থেকে কিশোর, কিশোর থেকে যুবক হল, হারিয়ে গেল তার জন্মভূমি । জীবনের নানা ক্ষয়ক্ষতি সত্বেও তার রূপকথার জগতে হারালো না । তারপর, তার পুত্রের মধ্যেও সেই জীবন প্রতীতি বয়ে চললো । সে কথাই তিনি অসাধারণ শিল্পের দ্বারা ফুটিয়ে তুলেছেন । রোমা রোলাঁর জয়েন্ট Jean Christopheএর সঙ্গে ‘পথের পাঁচালী’র বিশেষ সাদৃশ্য আছে । তিন খন্ডে লেখা এই বৃহৎ উপন্যাস এক আশ্চর্য সৃষ্টি ।


‘আরণ্যক’ উপন্যাসটিতে প্রকৃতি স্বয়ং প্রধান চরিত্র হয়ে উঠেছে যার দৃষ্টান্ত বাংলা সাহিত্যে নেই । প্রকৃতির সাথে মানবমনের যে অচ্ছেদ্য সম্পর্ক, তাকে নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন তিনি । ‘ইছামতি’, ‘দেবযান’ এমন আরও উপন্যাসে প্রকৃতি ও ঈশ্বর অনুভূতি মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে । বস্তুত, অধ্যাত্ম চেতনা তাঁর উপন্যাসে একটি বড় লক্ষণ । ঈশ্বর কখনো মানব রূপে, কখনো প্রকৃতি রূপে, কখনো মধুর, কখনো নিষ্ঠুর রূপে ধরা দিয়েছে তাঁর কাব্যে । এভাবে বিভূতিভূষণ অনন্য কথাশিল্পীর মর্যাদা লাভ করেছেন ।




ঋণ স্বীকার- অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থ চট্টোপাধ্যায় .


বাংলা সাহিত্য আলোচনা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস আধুনিক যুগ


বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়



logoblog

Thanks for reading বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় Bibhutibhusan Bandyopadhay

Newest
You are reading the newest post

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Please do not enter any spam links in the comment box.